Showing posts with label Career-Bangla. Show all posts
Showing posts with label Career-Bangla. Show all posts

অল্প বিনিয়োগে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা ৫


অল্প বিনিয়োগে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা ৫

আপনি যদি ঢাকা শহরে নিলক্ষেত এলাকায় যান তাহলে নিশ্চয়ই দেখেছেন সেখানে শতশত মানুষ কম্পিউটার-প্রিন্টার নিয়ে ব্যবসা করছে। ইংকজেট প্রিন্টার নিয়মিত ব্যবহার না করলে কালি শুকিয়ে যায়, কালার লেজার প্রিন্টার কিনে ঘরে রেখে দিতে পারেন না। আপনার ব্যক্তিগতভাবে প্রিন্টার রাখা প্রয়োজন নেই। আপনার যে ধরনের প্রিন্টই প্রয়োজন হোক না কেন, তাদের কাছে করে নিতে পারেন। সেইসাথে যদি লেখার কিছু সংশোধন করা কিংবা সরল ডিজাইন প্রয়োজন হয় সেটাও করে নিতে পারেন তাদের কাছে।
আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইনার হন তাহলে আরেক ধরনের প্রতিস্ঠানের সাথে পরিচয় থাকার কথা। চাররঙা অফসেটে প্রিন্ট করার জন্য ইমেজ সেটার ব্যবহার করে ফিল্মে প্রিন্ট সার্ভিস দেন তারা। কিংবা ড্রাম স্ক্যানার ব্যবহার করে উচু মানের স্ক্যানিং সার্ভিস।
এই দুধরনের সেবার মাঝামাঝি সেবা দেয়ার ব্যবসা প্রতিস্ঠান গড়ে তুলতে পারেন অল্প খরচেই। মাঝামাঝি বলার অর্থ একদিকে আপনি যেমন কোটি টাকা বিনিয়োগ করছেন না অন্যদিকে একেবারে ছোট ব্যবসাও করছেন না।
গ্রাফিক ডিজাইন এবং প্রিন্টিং সার্ভিস এমন সেবা যেখানে কাজের সমস্যা হয় না। বিভিন্ন প্রতিস্ঠান তো বটেই, ব্যক্তিগত পর্যায়েও নানারকম প্রিন্ট কিংবা কিছুটা ডিজাইনের কাজ করা প্রয়োজন হয়। অনেকে কম্পিউটার কেনার সময় শখ করে প্রিন্টার কেনেন কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বুঝে যান সেটা না করে প্রয়োজনের সময় কোথাও থেকে প্রিন্ট করে নেয়া অনেক নিরাপদ এবং খরচ কম। অনেক ভাল মানের প্রিন্ট পাওয়া যায় কম খরচে।

কি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন
মুলত প্রিন্টিংকে মুল ধরে প্রস্তুতি নিতে পারেন। কারো প্রয়োজন সাধারন টেক্সট প্রিন্ট কারো মোটামুটি রঙিন প্রিন্ট, কারো ফটোকোয়ালিটি প্রিন্ট। এজন্য কদমামী ইংকজেট প্রিন্টার, ফটোকোয়ালিটি প্রিন্টার এবং লেজার প্রিন্টার রাখতে পারেন। এদের সবগুলিই বর্তমানে যথেষ্ট কমদামে পাওয়া যায়।
এছাড়া স্ক্যানার, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি রাখতে পারেন। সেইসাথে কম্পিউটার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা প্রয়োজন।
উন্নত দেশগুলিতে এধরনের কাজ করা হয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। আপনি উদ্দ্যোগ নিয়ে সেই সুবিধে চালু করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন দিনরাত সেবা দেয়া সম্ভব, অন্যদিকে যাতায়াতের মত কষ্টকর কাজ করতে হয় না। ক্লায়েন্ট নিরাপদ বোধ করবেন যখন জানবেন তার কাজ কখন-কিভাবে হচ্ছে। এজন্য আপনার প্রয়োজন ইন্টারনেট সংযোগ এবং একটি ওয়েবসাইট। খুব সহজেই এগুলির ব্যবস্থা করা যায়। এরফলে প্রচার যেমন বাড়বে, কাজ বাড়বে সেইসাথে আয় বাড়বে।

কি কি বিষয়ে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন
আপনার প্রচার এবং সুনাম যত বেশি কাজের সম্ভাবনা তত বেশি। যদি ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রিন্টি চালু করেন তাহলে যেহেতু অন্যরা করছে না, আপনি করছেন, এটাই বড় ধরনের প্রচারের সুযোগ। আপনার মুল দায়িত্ব মানুষের আগ্রহ ধরে রাখা, সেবা দিয়ে সন্তুষ্ট রাখা। কাজটি সম্ভব খুব সহজেই।
আপনার মুল কাজ কম খরচে সেবা দেয়া। প্রতিটি প্রিন্টের জন্য আপনার খরচ কত হচ্ছে সেটা আপনার জানা। কাগজ-কালি-যন্ত্রপাতির অবচয় সবকিছু সহ। তারসাথে ঘন্টায় কতটা প্রিন্ট করা সম্ভব, প্রতি ঘন্টা প্রিন্ট করলে কত লাভ হতে পারে এই বিষয়গুলি হিসেব করে কাজের মুল্য নির্ধারন করুন এবং সেটা স্পষ্টভাবে ক্লায়েন্টকে জানন।
অনেক সময়ই ক্লায়েন্টের প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। হয়ত কেউ প্রিন্ট করে কোথাও জমা দেবেন বেলা ১২ টার মধ্যে, তাকে ১ ঘন্টা দেরীতে দিলে সেটা তার কোনই কাজে আসবে না। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে কাজ ঠিক করে নিন। কোন কাজ কখন শেষ হবে নিষ্চিত করুন (লোডসেডিং এর মত বিষয়কে মাথায় রেখে)।
কারো প্রয়োজন কম খরচে প্রিন্ট, কারো প্রয়োজন উচুমানের প্রিন্ট। যার যা প্রয়োজন সেদিকে দৃষ্টি দিন। ক্লায়েন্টের বিস্বস্ততা অর্জন করুন। কাজের মান এবং খরচ দুদিকে যতবেশি সুবিধে দেবেন তত বেশি ক্লায়েন্ট পাবেন।

কিভাবে শুরু করবেন
কতটা বড় আকারে ব্যবসা করতে চান তার ওপর নির্ভর করে আপনি কিভাবে শুরু করবেন। একটিমাত্র কম্পিউটার দিয়ে শুরু করতে পারেন। আবার লোকবল এবং প্রচারের ব্যবস্থা থাকলে একবারে বড় করে শুরু করতে পারেন। বড় করে শুরু করার সুবিধে হচ্ছে শুরুতেই বড় ধরনের প্রচার পাওয়া যায়। ফলে একবারেই ব্যবসা দাড়িয়ে যায়।
যদি বড় আকারে করতে চান তাহলে যোগাযোগের সুবিধেসহ বড় যায়গা প্রয়োজন। যদি মুলত বাড়িতে পৌছে দেয়ার লক্ষে কাজ করেন তাহলে আবাসিক বাড়িতেই করা সম্ভব। আর মাঝামাঝি ধরনের জন্য কোন মার্কেটে যায়গা নেয়া যথেষ্ট।
অবস্থান এবং যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বপুর্ন। শুরুতে নিলক্ষেতের উদাহরন দেয়া হয়েছে। সেখানে বেশি ক্লায়েন্টের একটি কারন পাশেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্য যায়গা থেকেও যাতায়াত তুলনামুলক সহজ। প্রিন্ট হাউজগুলি মুলত মতিঝিল এলাকায় আর প্রকাশনার প্রতিস্ঠানগুলি বাংলাবাজারে।

অতিরিক্ত সম্ভাবনা
ব্যবসার মুলসুত্র যোগাযোগ। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন কি অধিকাংশ মানুষ কোন কাজের প্রয়োজন হলেই পরিচিত কাউকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করে, অমুক কাজ কোথায় করা যায়।
প্রিন্টের প্রতিস্ঠান হতে পারে যোগাযোগের মাধ্যম। স্থানীয়ভাবে ব্যক্তি বা প্রতিস্ঠানের গ্রাফিক ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি থেকে শুরু করে নানাধরনের কাজ করা প্রয়োজন হয়। যোগাযোগের মাধ্যমে হিসেবে ক্লায়েন্টকে সেগুলি জানান, প্রয়োজনে পার্টটাইম কাউকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিন। বহু ব্যক্তি পাওয়া যাবে যারা বাড়িতে বসে টাইপ করা থেকে শুরু করে ভিডিও এডিটিং কাজ করে দিতে পারেন। আপনার প্রতিস্ঠানকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।
সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা, উদ্দ্যোগ নেয়া এবং শুরু করাই প্রধান কাজ। শুরু করলে ক্লায়েন্টর চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর বহু সুযোগ রয়েছে।

অল্প বিনিয়োগে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা ৪


অল্প বিনিয়োগে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা ৪

বিনিয়োগ যখন অল্প তখন মেধা এবং পরিশ্রম বেশি এটাই স্বাভাবিক। একেবারে কম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কম্পিউটার সার্ভিসিং এজন্য আদর্শ ব্যবসা হতে পারে। বর্তমানে কম্পিউটার সকলের কাছেই একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। আপনার চারিদিকে হাজার হাজার কিংবা লক্ষ লক্ষ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করছেন। তারা প্রতিনিয়ত নানারকম সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন। তাদের সমস্যা সমাধান করাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন।
কি প্রয়োজন
মুল প্রয়োজন আপনার দক্ষতা। ব্যবহারকারীর সমস্যাগুলিকে দুভাবে ভাগ করতে পারেন, হার্ডঅয়্যার ভিত্তিক এবং সফটঅয়্যার ভিত্তিক। হার্ডঅয়্যার সমস্যা হচ্ছে কিছু নষ্ট হওয়া, নতুন কিছু লাগানো, কম্পিউটার ঠিকভাবে কাজ না করা। আর সফটঅয়্যার সমস্যা হতে পারে ভাইরাস আক্রমন থেকে শুরু করে সফটঅয়্যার ইনষ্টল করা পর্যন্ত। আপনি যখন সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব নেবেন তখন আপনার পর্যাপ্ত দক্ষতা (এবং অভিজ্ঞতা) প্রয়োজন। একজন দক্ষ ব্যক্তি নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রশ্ন করেই ধারনা করে নিতে পারেন আসলে সমস্যাটি কোথায়।
আপনি অল্প সময়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন না। যদি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকে তাহলে এই সময় কমাতে পারেন। প্রতিটি সমস্যার পেছনে সত্যিকারের কারন কি সেটা জানার চেষ্টা করে এই দক্ষতা অর্জণ করতে পারেন। কারন ছাড়া কম্পিউটারের সমস্যা হয় না, এই সহজ কথাটি মনে রেখে কারন খোজার চেষ্টা করুন।
জ্ঞানের বাইরে আপনার যন্ত্রপাতি প্রয়োজন খুবই সামান্য। কয়েকটি স্ক্রড্রাইভার ব্যবহার করেই আপনি সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। কম্পিউটারের হার্ডঅয়্যার সমস্যা সমাধানের মুল পদ্ধতি হচ্ছে একটি খুলে আরেকটি লাগিয়ে দেখা। একারনে পরীক্ষা করার মত হার্ডডিস্ক, মেমোরী, গ্রাফিক্স কার্ড, পাওয়ার সাপ্লাই ইত্যাদি রাখতে হবে। এছাড়া এধরনের কাজে ব্যবহার হয় এমন সফটঅয়্যার। সেইসাথে বিভিন্ন ডিভাইসের ড্রাইভার, ম্যানুয়েল ইত্যাদি।
কাজের সম্ভাবনা
প্রতিনিয়ম মানুষের কম্পিউটারে সমস্যা হচ্ছে। কাজেই কাজ পেতে সমস্যা হওয়ার কারন নেই। যা প্রয়োজন তা হচ্ছে ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জন করা। যিনি আপনার ওপর নির্ভর করবেন। একদিকে আপনি কাজটি ভালভাবে করতে পারবেন অন্যদিকে আপনি তাকে ঠকাবেন না এই দুই বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়া প্রয়োজন। আপনি কি লক্ষ করেছেন  ঢাকা শহরে কয়েক হাজার কম্পিউটার প্রতিস্ঠান থাকলেও ব্যবহারকারী কারো নাম উল্লেখ করে বিস্বস্ত বলেন না।
আপনি হতে পারেন সেই বিস্বস্ত ব্যক্তি।
কি নিয়ম মেনে চলবেন
এই কাজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বচ্ছতা। ক্লায়েন্টকে আগেই জানিয়ে নেবেন তার কাজের জন্য কোন হিসেবে অর্থ নেবেন। আপনি সমস্যা খুজে বের করার জন্য নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ নেবেন (যতটা সম্ভব কম, সেটা আগেই জানিয়ে দিন)। যদি কোন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা প্রয়োজন না হয় তাহলে এরবেশি অর্থ নেবেন না। যদি প্রয়োজন হয় ক্লায়েন্ট কিনে দেবেন অথবা কেনার মুল্য দেবেন।  সেখানে লাভ করবেন না। আপনার মুল আয় সার্ভিস চার্জ থেকে, তাতেই সন্তুষ্ট থাকবেন।
সফটঅয়্যার সমস্যার ক্ষেত্রে আগেই জানিয়ে নেবেন সার্ভিস চার্জ কত। অপারেটিং সিষ্টেম ইনষ্টল করার চার্জ একরকম, ডাটা রিকভারী চার্জ আরেক রকম। কাজ যত জটিল চার্জ তত বেশি এই নিয়মে।
আরো একবার মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে, ক্লায়েন্ট ঠকাতে চেষ্টা করবেন না। তার আস্থা অর্জন করুন। ব্যবসার মুল চাবিকাঠি সেখানেই।
কি করবেন না
পৃথকভাবে একথা উল্লেখ করা প্রয়োজন হয়ত নেই। কিন্তু আপনি যদি বিভিন্ন সার্ভিস সেন্টারের দিকে একবার দৃষ্টি দেন তাহলে একটি সাধারন বিষয় লক্ষ করবেন। তাদের ঘরে জিনিষপত্র রাখার যায়গা নেই। কেউ ঠিক করার জন্য দিয়েছেন, সেটা জমা আছে। মাসের পর মাস, কিংবা বছর। এটা সার্বিসিং কাজের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক।
কারো কাজ হাতে নিলে যতটা সম্ভব দ্রুত কাজ করে দিন। সম্ভব না হলে ফেরত দিন। কখনো নিজের কাছে জমা রাখবেন না। কাউকে সময়মত কাজ করে দিতে না পারলে তারকাছে ক্ষমা চাইবেন। কারন অপরাধ আপনার। তিনি পরবর্তীতে আপনার কাছে আসবেন। যদি তিনি মনে করেন আপনি তাকে ঘুরাচ্ছেন তিনি নিজে আসবেন না, অন্যকে আসতে নিষেধ করবেন।
কি মুলধন প্রয়োজন
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে এজন্য খুব বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট একটি যায়গা প্রয়োজন। ঢাকার মত শহরে যায়গা অত্যন্ত দামী। সেখানে বিনিয়োগের পরিমান জানানো সম্ভব না।
নিজের বাড়িতে একটি ঘরকে একাজে ব্যবহার করতে পারেন। প্রয়োজনে বাড়ি বা অফিসে গিয়ে সমস্যা সমাধান করে দিতে পারেন। যদি যোগাযোগ ভাল থাকে তাহলে যায়গা তত গুরুত্বপুর্ন বিষয় হয়ে দাড়াবে না।
অতিরিক্ত সম্ভাবনা
অনেক অফিসে অনেক বেশি সংখ্যক কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এজন্য তাদেরকে বেতনভোগি লোক নিয়োগ দিতে হয়। যাদের সে সামর্থ্য নেই তাদের সাথে সার্ভিসিং চুক্তি করতে পারেন। কম্পিউটার এবং অন্যান্য ডিভাইসের সংখ্যা হিসেবে করে বার্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সেগুলির সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নিতে পারেন। এরফলে নিয়মিত অর্থ পাবেন। আপনার দায়িত্ব নির্দিস্ট সময়ে গিয়ে সেগুলি দেখে আসা (সপ্তাহে একদিন বা দুদিন এবং তারা সমস্যার খবর দিলে), যতটা সম্ভব সমস্যামুক্ত রাখা। সমস্যা হলে সাথেসাথে ঠিক করে দেয়া। সার্ভিসিং কাজের মত চুক্তি হতে পারে যন্ত্রাংশ ছাড়া অথবা যন্ত্রাংশ সহ।
একেবারে অল্প বিনিয়োগে শুধুমাত্র দক্ষতা এবং বিস্বস্ততার কারনে বিপুল সম্ভাবনাময় প্রতিস্ঠান গড়ে তুলতে পারেন এভাবে।

অল্প বিনিয়োগে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা ৩


অল্প বিনিয়োগে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা ৩

আগের পোষ্টে উল্লেখ করা হয়েছে অল্প বিনিয়োগে ভিডিও তৈরী করার ব্যবসার কথা। যদি ফটোগ্রাফির কথা বলা হয় তাহলে হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন ভিডিও থাকলে ফটোগ্রাফি নিয়ে মাথা ঘামায় কে ? এই ভুল বহু মানুষ করে। এমনকি বিয়ের ভিডিও করা হচ্ছে কাজেই ফটোগ্রাফ প্রয়োজন নেই এটাই ধরে নেয়। যখন প্রয়োজন হয় তখন আর কিছু করার থাকে না। আপনি কি জানেন একজন ভিডিওগ্রাফার যে পরিমান অর্থ উপার্জন করেন একজন ফটোগ্রাফার তারথেকে বেশি আয় করেন ?
অবশ্যই আপনাকে সত্যিকারের ফটোগ্রাফার হতে হবে। ক্যামেরার সাটার রিলিজ বাটন চাপলে ছবি ওঠে এটুকু জেনে আপনি যথেষ্ট টাকা নিতে পারেন না। 
কি কি শিখতে হবে
আপনাকে ফটোগ্রাফি শিখতে হবে। সাধারনভবে ফটোগ্রাফিকে যতটা সহজ মনে করা হয় বাস্তবে বিষয়টি তত সহজ না। ক্যামেরা ব্যবহারের বহু পদ্ধতি যেমন আছে, তেমনি লাইট সম্পর্কে ভাল জ্ঞান প্রয়োজন, সেইসাথে শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি। ফ্যাশান পত্রিকায় যে ছবিগুলি দেখেন তাদের অনেক ফট্রেগ্রাফার এতটাই খ্যাতিমান যে একজন মডেল তারকাছে ছবি উঠানোর সুযোগকে সাফল্যের পথ বলে বিবেচনা করে।
সম্ভব হলে ফটোগ্রাফির কোর্স করুন। ইন্টারনেটে ফটোগ্রাফি বিষয়ক বহু তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নিয়মিত ফটোগ্রাফি বিষয়ে পরামর্শ টিউটোরিয়াল ইত্যাদি দেয়া হয়। এই সাইটেও রয়েছে। সেগুলি দেখার পাশাপাশি ভাল ছবি দেখে তারসাথে মন্দ ছবির পার্থক্য কি বোঝার চেষ্টা করুন। এবং প্রচুর পরিমান ছবি উঠান। সেগুলি বিশ্লেষন করুন।
সরাসরি উঠানো ছবি কখনোই মনের মত হয় না। একে সফটঅয়্যার ব্যবহার করে আকর্ষনীয় করতে হয়। অনেক সময় বাস্তবে মুখের দাগ থাকলে সেটাও ঠিক করা হয়। (যার ছবি তিনি সবসময়ই ছবিতে সুন্দর দেখতে চান। এজন্য ফটোশপ, লাইটরুম বা অন্য কোন ফটো এডিটিং সফটঅয়্যারে দক্ষতা অর্জন করুন।
কি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন
আপনার অবশ্যই এসএলআর ক্যামেরা প্রয়োজন হবে, পয়েন্ট এন্ড শ্যুট ক্যামেরা দিয়ে পেশাদার কাজের আশা করবেন না। একেবারে কম বাজেট হলে নাইকন ডি৩১০০ পর্যায়ের ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারেন তবে আরেকটু বেশি বাজেটের ডি৭০০০ পর্যায়ের ক্যামেরা হলে ভাল ফল পাবেন। এরসাথে যে লেন্স দেয়া হয় সেটাও গুরুত্বপুর্ন। অন্যথায় পৃথক লেন্স কেনা প্রয়োজন হবে।
ক্যামেরার সাথে ফ্লাম কেনার দিকে গুরুত্ব দিন। ক্যামেরার বিল্টইন ফ্লাশ অনুষ্ঠানের ছবি উঠানোর জন্য যথেষ্ট না। ১০০ ডলারের কমদামী ফ্লাশ হলেও অনেক ভাল ফল পাবেন। টাইপড ব্যবহার করুন। ৫০ ডলারের মধ্যে ফটোগ্রাফি ট্রাইপড কেনা সম্ভব।
কাজ কিভাবে পাবেন
আপনি যখন নিজেকে পেশাদার ফটোগ্রাফার হিসেবে পরিচয় দেবেন তখন প্রচারের জন্য প্রচলিত ব্যবস্থাগুলি গ্রহন করবেন। স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞাপন দেবেন, পরিচিতদের মাধ্যমে প্রচার চালাবেন। বিনামুল্যের ব্লগ করে এবং সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট (ফেসবুক, ফ্লিকার) এর মাধ্যমে নিজের ভাল ছবিগুলি অন্যদের দেখাতে পারেন। একথা ঠিক, ফটোগ্রাফার হিসেবে শুরুতে কাজ পাওয়া কঠিন। সেটা সব ব্যবসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
নিজস্ব ষ্টুডিও ব্যবহার করলে তার প্রচারের ব্যবস্থা করুন।
কাজ কোথায় পাবেন
বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিস্ঠানের ছবি উঠানোর প্রয়োজন হয় বিভিন্ন কারনে। মুলত অনুষ্ঠান করার সময় তার ছবি উঠানোর প্রয়োজন হয়। এছাড়া বিজ্ঞাপনের জন্য মডেল বা পন্যের ছবি থেকে শুরু করে গ্রাফিক ডিজাইনার, নাটকের শ্যুটিং, রাজনৈতিক সভা-সেমিনার সব যায়গায় ফটোগ্রাফার প্রয়োজন হয়।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছবি বিক্রি করে নিয়মিত আয় করা সম্ভব। ছবির মান যত ভাল দাম তত বেশি এই নিয়মে। এজন্য বেশকিছু প্রতিস্ঠান রয়েছে যারা হোষ্টিং, প্রচার, বিক্রির ব্যবস্থা করে। তাদেরকে মাসিক ফি দিতে হয়, কিন্তু পরিবর্তে ছবি তোলা ছাড়া আপনাকে বিশেষ কিছু করতে হয় না।
কিভাবে শুরু করবেন
ফটোগ্রাফি এমনই একটি কাজ যা অন্য কাজের পাশাপাশি শুরু করা সম্ভব। অবশ্যই কাজের ধরন অনুযায়ী। এজন্য অফিস প্রয়োজন হয় না। আর যদি পুরোপুরি ব্যবসা হিসেবে শুরু করতে চান তাহলে ষ্টুডিও বানিয়ে করাই ভাল। ষ্টুডিওর জন্য বিশেষ ধরনের লাইট প্রয়োজন হয়। এছাড়া ঢাকার মত শহরে যায়গার খরচ যথেষ্ট বেশি। কাজেই শুধুমাত্র ফটোগ্রাফি ব্যবসা করার চেয়ে সাথে ভিডিও রাখা সুবিধেজনক।

অল্প বিনিয়োগে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা ২


অল্প বিনিয়োগে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা ২

বর্তমান যুগের মানুষ ডিজিটাল জগতে বাস করে। টিভি, ডিভিডি, মোবাইল ফোন সব যায়গায় মানুষ ছবি, ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। একে ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। বলা হচ্ছে ভিডিও রেকর্ড করার কথা। বিয়ে, জন্মদিন, পারিবারিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, পার্টি, খেলাধুলা, পিকনিক ইত্যাদির ভিডিও করে তাকে সিডি-ডিভিডি-ব্লুরে ডিস্কে তৈরী করে দেয়া।
সবচেয়ে বড় কাজ বিয়ের অনুষ্ঠান রেকর্ড করা। বিষয়টি সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। এজন্য একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন রয়েছে যারা বিয়ের ভিডিও নিয়ে নানারকম পরার্মশ দেয়, অন্যদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। আর বিয়ের অনুষ্ঠঅন মানুষের জীবনে আনন্দোচ্ছল একটি দিন যার স্মৃতি মানুষ ধরে রাখতে চায়। এর চাহিদা আগে যেমন ছিল, বর্তমানে বাড়ছে আগামীতে আরো বাড়বে।
কি যোগ্যতা প্রয়োজন
একজন মানুষের হাতে ক্যামেরা থাকলেই তিনি ভিডিও করতে পারেন। অনেক স্মার্টফোনে হাই ডেফিনিশন ভিডিও রেকর্ড করা যায়। আপনি যখন একে পেশা হিসেবে নেবেন তখন নিশ্চয়ই এমন কাজ করবেন না যা দেখে আরেকজন বলবে, ওটা আমিই করতে পারি। এজন্য আপনাকে যথেস্ট পারিশ্রমিক দেয়া হবে না।
আপনি যখন পেশাদার তখন আপনার কাজে তার প্রতিফলন থাকতে হবে। উচুমানের কাজ করবেন যেন সেটা দেখেই অন্যরা বোঝেন কেন পেশাদার প্রয়োজন। এজন্য ভিডিওগ্রাফি কোর্স করতে পারেন, বইপত্র-ইন্টারনেট ব্যবহার করে শিখতে পারেন। নিয়মিত কাজ করে দক্ষতা বাড়াতে পারেন। মোটকথা আপনাকে বুঝতে হবে ভিডিওগ্রাফি কি, কোন আলোতে কিভাবে ভাল ভিডিও পাওয়া যায়।
ভিডিও বলতে গ্রাহক বুঝবে তৈরী ভিডিও, যারসাথে এডিটিং এর সম্পর্ক রয়েছে। আপনাকে এডিটিং এর সময়ও দক্ষতা দেখাতে হবে। সেটাও শিখতে হবে ভালভাবে। এই সাইটে অনেকগুলি টিউটোরিয়াল রয়েছে এবিষয়ে।
কি প্রয়োজন
ভিডিও রেকর্ড করার জন্য অবশ্যই আপনার ক্যামেরা প্রয়োজন। ক্যামেরা যতটা ভাল হয় ভিডিওর মান তত ভাল হবে। এজন্য সেমি-প্রোফেশনাল ক্যামেরা পাওয়া যাবে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে (বাংলাদেশি টাকায়)। ক্লায়েন্টের একটি সাধারন ধারনা ক্যামেরার বড় হলে ভিডিও ভাল হয়, অন্যদিকে প্রফেশনাল ক্যামেরাগুলিও ক্রমে ছোট হয়ে আসছে। ক্লায়েন্টকে বুঝানোর দায়িত্ব আপনার। একই দিনে একাধিক যায়গায় কাজ করার জন্য একাধিক ক্যামেরা প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানের ক্যামেরাগুলি রেকর্ড হয় মেমোরী কার্ডে বা এধরনের অন্য মাধ্যমে, ফলে ক্যাসেটের খরচ নেই।
ক্যামেরার জন্য ট্রাইপড এবং লাইটের বিষয়টিও মাথায় রাখুন।
এডিটিং এর জন্য প্রয়োজন হবে একটি শক্তিশালী কম্পিউটার। প্রসেসর শক্তিশালী হলে ভাল, সেইসাথে বেশি মেমোরী, হার্ডডিস্কে বেশি যায়গা, এবং ভাল ভিডিও কার্ড থাকলে সুবিধে পাবেন।
হাইডেফিনিশন ভিডিওর চাহিদা বর্তমানে ক্রমশ বাড়ছে। ব্লুরে ভিডিও রেকর্ড করে অতিরিক্ত অর্থ নিতে পারেন।
কিভাবে কাজ পাবেন
ভিডিও কাজ পাওয়ার জন্য অফিস গুরুত্বপুর্ন। আর এদিকে খরচ এতটাই বেশি যে মুল বিনিয়োগের টাকা এদিকে দিতে হয়। সম্ভব হলে নিজে অফিস নিন, সম্ভব না হলে কারো সাহায্য নিয়ে তার ঠিকানা ব্যবহার করুন। বর্তমান যুগে মানুষ যোগাযোগ করে মোবাইল ফোনে কাজেই এতে খুব সমস্যা হওয়ার কথা না।
এই ব্যবসার জন্য প্রচার প্রয়োজন। আপনার ক্লায়েন্ট যেহেতু স্থানীয় লোকজন সেকথা মাথায় রেখে প্রচারের ব্যবস্থা করুন। এখানে ওখানে পোষ্টার-ব্যানার লাগাতে পারেন। কার্ড ছেপে পরিচিতদের দিন। পরিচিত ব্যক্তিদের সাহায্যে যোগাযোগের চেষ্টা করুন।
নিজের করা কাজগুলির ভাল অংশগুলি একসাথে করে একটি সিডি-ডিভিডি তৈরী করুন অন্যদের দেখানোর জন্য। নিজস্ব ওয়েবসাইট রাখতে পারেন প্রচারের জন্য। অনেকে কেবল টিভিতে বিজ্ঞাপন দেন। এধরনের সম্ভাব্য যায়গাগুলিতে বিজ্ঞাপন দিন।
ভিডিও রেকর্ড করা এবং সেগুলি এডিট করার বাইরে যারা নিজেরা ভিডিও করেন সেগুলি এডিট করার কাজও করতে পারেন। এতে অতিরিক্ত অর্থ এবং পরিচিতি দুদিকেই সুবিধে পাওয়া যায়।
কিভাবে শুরু করবেন
এধরনের উদ্দ্যোগ একা নেয়া কঠিন। একই ব্যক্তি ক্যামেরাম্যান এবং এডিটর হিসেবে কাজ করা কঠিন। বিয়ে বিষয়টি ঋতুভিত্তিক, বাংলাদেশে অধিকাংশ বিয়ে হয় শীতকালে কাজেই একই দিনে একাধিক যায়গায়  কাজ থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ রাখতে পারেন ক্যামেরাম্যানের সাথে। প্রয়োজনে অন্যের ক্যামেরা ভাড়া নিয়েও জরুরী কাজ চালাতে পারেন।
অন্তত দুজন মিলে শুরু করুন। একজন ক্যামেরা ব্যবহারে দক্ষ হবেন, আরেকজন এডিটিং এবং ফোনে যোগাযোগের কাজ করবেন।
ভবিষ্যত সম্ভাবনা
যারা ভিডিও নিয়ে কাজ করেন তারা একসময় নিজে কিছু করার পথে যান। অনুষ্ঠান ভিডিও থেকেই একসময় ভিডিও বিজ্ঞাপন তৈরীর কাজে হাত দিতে পারেন। কিংবা নিজেই একটা ডকুমেন্টারী, নাটক কিংবা মুভি তৈরী করতে পারেন।
শেষকথা
একাজ আগে থেকে যারা করছেন তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করেই আপনাকে কাজ করতে হবে। প্রতিযোগিতার মুল বিষয় আপনার কাজের মান। অন্যের চেয়ে কম টাকায় কাজ করার প্রতিযোগিতায় কখনো যাবেন না। লক্ষ করলে দেখবেন যারা কাজ করছে তাদের একজন অপরজন থেকে ১০ গুন বেশি অর্থ নেন, তারপরও তারকাছেই ক্লায়েন্ট বেশি।
কাজের মান ঠিক রাখুন, দৈর্য্য ধরে পরিচিতি বাড়াতে চেষ্টা করুন। একসময় স্থায়ী ব্যবসা হিসেবে খ্যাতি এবং অর্থ দুইই পাবেন।

অল্প বিনিয়োগে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা - ১


অল্প বিনিয়োগে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা - ১

ব্যবসার সাথে প্রয়োজন বিনিয়োগ। অনেক ব্যবসায় বিনিয়োগ এতটাই বেশি যা অধিকাংশ মানুষের পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। সেইসাথে ব্যবসার নানারকম ঝুকি যখন রয়েছে। একে প্রতিবন্ধকতা দুর করা যেতে পারে মেধা ব্যবহার করে। যেখানে আর্থিক বিনিয়োগ কম, মেধা এবং পরিশ্রমের প্রয়োজন বেশি।
এধরনের কিছু ব্যবসার ধারাবাহিক উল্লেখ করা হচ্ছে এখানে
ওয়েব ডিজাইন এবং মেইন্টেনেস্স
নাম থেকেই ধারনা পেতে পারেন কি করতে হবে। কারো ওয়েবসাইট তৈরী করা প্রয়োজন হলে করে দেবেন। কোন সমস্যা হলে সেটা ঠিক করে দেবেন।
কোন কোম্পানী অথবা ব্যক্তি, যিনি নিজস্ব ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে চান তারপক্ষে নিজে সেকাজে দক্ষতা অর্জন করে নিজে করা যেমন সম্ভব না, তেমনি বেতন দিয়ে একজন সার্বক্ষনিক কাউকে নিয়োগ দেয়াও সম্ভব না। সেখানেই প্রয়োজন হয় চুক্তিভিত্তিক কোন ব্যবস্থা। আপনি একা বা কয়েকজন মিলে একে ব্যবহার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
কি দক্ষতা প্রয়োজন : মুলত ওয়েব ডিজাইনে দক্ষতা। কয়েকজন একসাথে কাজ করলে ভিন্নভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। এরমধ্যে থাকতে পারে ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা থেকে শুরু করে ড্রিমওয়েভার-ফ্লাশ ভিত্তিক কাজ। একদিকে প্রয়োজন হবে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব এনিমেশন অন্যদিকে পিএইচপি প্রোগ্রামিং, ওয়েব পেজে শপিং কার্ট যোগ করা, ক্যাটালগ যোগ করা কিংবা ফরম তৈরীর মত কাজ। মুলকথা, নানা ধরনের ওয়েব পেজ তৈরীর জন্য যাকিছু প্রয়োজন সবকিছু। যত বেশি ধরনের কাজ করার সক্ষমতা থাকবে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।
কি বিনিয়োগ প্রয়োজন : কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট। সাধারনভাবে এর বাইরে উল্লেখ করার মত কিছু প্রয়োজন হওয়ার কথা না। এমনকি অফিস ভাড়া নেয়ারও প্রয়োজন হয় না। নিজের বাড়িতে একটু যায়গা ব্যবহার করেই ব্যবসা শুরু করা যায়।
কাজের সম্ভাবনা : আপনার এলাকায় যেসব অফিস রয়েছে তাদের সাথে যদি আলাপ করেন দেখবেন অনেকেই নিজের ওয়েব পেজ তৈরী করতে চান। তারা সেটা করছেন না কারন অনেকেরই ধারনা নেই কত সহজে, কত কম খরচে সেটা করা যায়। বাংলাদেশে খুব কম ব্যবসা প্রতিস্ঠানই  নিজস্ব ওয়েব সাইট ব্যবহার করে। এর সুবিধে কি তুলে ধরলে সহজেই কাজ পাওয়া সম্ভব।
জুমলা, ওয়ার্ডপ্রেস এবং এধরনের অন্যান্য সাইটের ফোরামে কিছু সময় কাটালে দেখবেন বহু মানুষ ব্যক্তিগত ব্লগ থেকে শুরু করে বড় ধরনের ওয়েবসাইট তৈরীর প্রস্তাব নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তাদের কাজ করে দিতে পারেন। ও-ডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার এর মত সাইটে অসংখ্য কাজ রয়েছে ওয়েব ডিজাইনের।
এর বাইরে ব্যক্তিগতভাবে একজন ফটোগ্রাফার ওয়েব এলবাম তৈরী করতে পারেন, ব্যবসা প্রতিস্ঠান তাদের পন্যের পরিচিতি তুলে ধরতে পারেন, এনজিও তাদের কার্যক্রম প্রকাশ করতে পারেন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এধরনের কাজ একবার করে যেমন টাকা পাবেন, পরবর্তিতে সেটা আপডেট করেও নিয়মিত অর্থ পাবেন।
পরিচিতি বাড়লে অনলাইনে বড় কোম্পানীর কাজ পাবেন। তবে শুরুতেই সেটা পাওয়ার আশা করবেন না, যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকলে সেজন্য যোগাযোগ না করাই ভাল। ছোট থেকেই বড় হতে হয়।
অতিরিক্ত আয় : ডোমেন এবং হোষ্টিং রেজিষ্ট্রেশনের ব্যবস্থা করে অনায়াসে অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। অনেকেই আমেরিকার বিশ্বসেরা সার্ভারে নিজের সাইট রাখতে চান অথচ সেখানে যোগাযোগ, অর্থ দেয়ার ঝামেলায় যেতে চান না। তাদের স্থানীয় প্রতিনিধি হয়ে ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ এবং অর্থলাভ দুইই সম্ভব।
কিভাবে শুরু করবেন : শুরু করাটাই সবচেয়ে কঠিন। বিনিয়োগ নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা না। ঠিক কি কি কাজ করতে পারেন, কোন ধরনের ক্লায়েন্ট টার্গেট করছেন, কি কাজ করবেন এগুলি ঠিক করুন। একটি প্রোফাইল তৈরী করুন যা ক্লায়েন্টকে দেখানো যায়। সেখানে পরিচিতি, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, কোন ধরনের কাজ করতে পারেন সবকিছু লিখুন। এরপর নিজের ওয়েবসাইট তৈরী করে তার মাধ্যমে সেগুলি জানানোর ব্যবস্থা করুন। অনলাইনে ব্যানার বিজ্ঞাপন দিন। বিভিন্ন ফোরামে যোগ দিন। সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে অন্যদের জানা।
স্থানীয়ভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন বা  লিফলেট তৈরী করে অন্যদের দিন। পরিচিত কারো মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিস্ঠানের সাথে যোগাযোগ তৈরী করুন এবং সময় চেয়ে তাদের বুঝান ওয়েব সাইট তাদের কি উপকার করতে পারে এবং আপনি কিভাবে তাতে সহায়তা করতে পারেন।
মুল লক্ষনীয় বিষয় : এখানে দক্ষতাই আপনার হাতিয়ার। কাজেই সেটা বাড়ানোই মুল চ্যালেঞ্জ। যদি এমন কাজ প্রয়োজন হয় যা জানা নেই তাহলে সেকাজে দক্ষ কাউকে খুজে বের করুন, তারসাথে যোগাযোগ রাখুন। প্রয়োজনের সময় তারকাছে সেটা করে নেয়ার চুক্তি করুন। সেইসাথে নিজেদের দক্ষতা এবং প্রচার বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
শেষকথা : সবকিছু একা করতে চেষ্টা করবেন না। আপনি হয়ত ওয়েব ডিজাইনে দক্ষতা অর্জন করেছেন কিন্তু বাস্তবে অনেক সাইট তৈরীর জন্য একাউন্টেন্ট এমনকি আইনজীবীর পরামর্শও প্রয়োজন হয়। আপনি একা সবকিছু হতে পারেন না।
বাংলা-টিউটর সাইটে এধরনের নানা বিষয়ে পরামর্শ রয়েছে। অন্যান্য বহু সাইট রয়েছে এধরনের পরামর্শ দেয়ার জন্য। সময় নিয়ে সেগুলি পড়ুন, পরিকল্পনা করুন, তারপর কাজে হাত দিন।

 
Design by Wordpress Theme | Bloggerized by Free Blogger Templates | JCPenney Coupons